সংবাদ শিরোনাম
চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথে বড় পরিবর্তন, ডুয়াল গেজে রূপান্তরের উদ্যোগ
চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন আঞ্চলিক রেল নেটওয়ার্কের যোগাযোগ আরও কার্যকর করতে চট্টগ্রাম-দোহাজারী মিটার গেজ রেলপথকে ডুয়াল গেজে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ৫৯.৯৩ কিলোমিটার রেলপথের এই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের যোগাযোগব্যবস্থায় পরিবর্তনের পাশাপাশি বাণিজ্য, শিল্প, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। গত সোমবার পটিয়া পৌরসভা সম্মেলনকক্ষে প্রকল্পটির পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (ইআইএ) নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
সভায় জানানো হয়, বিদ্যমান চট্টগ্রাম-দোহাজারী মিটার গেজ রেলপথটি ডুয়াল গেজে রূপান্তর করা হলে একই লাইনে মিটার গেজ ও ব্রড গেজ—এ দুই ধরনের ট্রেন চলাচল করতে পারবে। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে দেশের উত্তর, পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের রেল যোগাযোগ আরও সহজ ও কার্যকর হবে। পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমবে।
প্রকল্পের আওতায় রেললাইন নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান সেতু, কালভার্ট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, স্টেশন, প্ল্যাটফর্ম, লুপলাইন, লেভেলক্রসিং, সিগন্যালিং ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা হবে। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা অবকাঠামোও উন্নত করা হবে।
প্রকল্প পরিচালক মো. আসাদুল হক বলেন, চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ ডুয়াল গেজে রূপান্তিত হলে দেশের রেল যোগাযোগের সক্ষমতা বাড়বে। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমবে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগ আরও কার্যকর হবে।
তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ চট্টগ্রামের শিল্প, কৃষি, পর্যটন ও বাণিজ্যে এ প্রকল্প নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। তবে উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণও আমাদের অঙ্গীকার। স্থানীয় জনগণের মতামত ও উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত ইআইএ প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।’
সভায় প্রকল্পসংশ্লিষ্ট পরিবেশ বিশেষজ্ঞ মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, নির্মাণকাজের সময় পরিবেশগত প্রভাব কমাতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে। ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানো, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোজাহিদুর রহমান বলেন, বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ভূমি অধিগ্রহণ, জলাবদ্ধতা, শব্দদূষণ ও স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দাবি জানান।