প্রকাশের তারিখ: Sep 29, 2026
অনলাইন সংবাদপত্র • প্রিন্ট সংস্করণ
khabarpatiya24.com
Website Logo
সংবাদ শিরোনাম প্রিন্টের তারিখ: 29 September 2026
সংবাদ শিরোনাম

দিল্লি সফর নিয়ে নতুন জল্পনা, সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে তারেক রহমানের উদ্যোগ

দিল্লি সফর নিয়ে নতুন জল্পনা, সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে তারেক রহমানের উদ্যোগ
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সাম্প্রতিক টানাপোড়েন কমিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে শিগগিরই ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি সফর করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আগামী সেপ্টেম্বরের ব্রিকস সম্মেলনের আগেই এ সফর হতে পারে। এমনকি চলতি আগস্টেই তাঁর দিল্লি সফরের সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহলের মতে, সম্ভাব্য এ সফরের মূল লক্ষ্য হবে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও ইতিবাচক, স্থিতিশীল ও জনস্বার্থকেন্দ্রিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। সরাসরি বৈঠকের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের পথ খোঁজার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে। শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান নেওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অস্বস্তি বাড়তে থাকে। এর পাশাপাশি সীমান্ত পরিস্থিতি, ভিসা জটিলতা, বাণিজ্যিক বাধা ও পারস্পরিক রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়েও সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রকাশ্যে আসে।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর দাবিও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে জোরালোভাবে উত্থাপিত হয়েছে। অন্যদিকে ভারতে তাঁর অবস্থান এবং সেখান থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি ঢাকার জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে একটি বেসরকারি আয়োজনে ভার্চ্যুয়ালি শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়। বাংলাদেশ এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করে। ভারত অবশ্য ওই অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে দেশটির সরকার কোনোভাবে জড়িত নয় বলে জানিয়েছে।
এর মধ্যেই দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বাড়ছে। গত সোমবার ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। পরে নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও তিনি বৈঠক করেন। এসব আলোচনায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের দাবি।
সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফরে গঙ্গার পানি বণ্টন, তিস্তার পানি, বাণিজ্যিক বাধা দূর করা, ভিসা ও মানুষের যোগাযোগ সহজ করা এবং শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আলোচনায় আসতে পারে।
গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে ফোন করেন এবং তাঁকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়তে থাকে।
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মেলনের আউটরিচ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।
তবে ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নিজে অংশ নেবেন নাকি প্রতিনিধি পাঠাবেন, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকস সম্মেলনের বাইরে আলাদা দ্বিপক্ষীয় সফর হলে দুই দেশের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠন এবং সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচনায় তা আরও কার্যকর হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমান ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন। সম্ভাব্য দিল্লি সফর বাস্তবায়িত হলে এটিই হবে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে নতুন সরকারের উচ্চপর্যায়ের সম্পর্ক পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

সূত্র: কালবেলা