চট্টগ্রামের পটিয়া বিসিক শিল্প এলাকায় সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার স্তূপ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট একটি স্থানে বর্জ্য ফেলার কারণে জায়গাটি অনেকটা ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পটিয়া পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা বিসিক এলাকার ওই স্থানে ফেলা হচ্ছে। দিনের পর দিন বর্জ্য জমে বড় স্তূপ তৈরি হয়েছে। ফলে আশপাশের পরিবেশ নোংরা হয়ে পড়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। বর্ষার সময়ে বৃষ্টির পানির সঙ্গে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা দীপক বলেন, “বিসিক এলাকার এই জায়গাটি এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন মানুষ ও যানবাহন চলাচল করছে। রাস্তার পাশে এভাবে ময়লা পড়ে থাকায় সবাইকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও স্থানীয়রা লেখালেখি করেছেন। এরপরও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ না নেওয়া হলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? আমরা চাই পৌর কর্তৃপক্ষ দ্রুত ময়লা অপসারণ করে নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করুক।”
স্থানীয়দের মতে, শুধু জমে থাকা ময়লা অপসারণ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। নির্দিষ্ট ও পরিবেশসম্মত স্থানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি বিসিক এলাকার ওই স্থানে যাতে পুনরায় ময়লা ফেলা না হয়, সেজন্য কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পটিয়া পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ডাম্পিং স্টেশন করার জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে খুব দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”
সাবেক মেয়রের আমলে ডাম্পিং স্টেশনের জন্য জায়গা কেনার উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জায়গাটি মামলা-সংক্রান্ত জটিলতায় পড়ে যাওয়ায় বিষয়টি আর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। এছাড়া পৌরসভার নিজস্ব তহবিলেও এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ নেই। মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া গেলে বিষয়টির সমাধান করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, বিসিক এলাকার ময়লার স্তূপ দ্রুত অপসারণ করে জায়গাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা না হলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
প্রিন্ট করুন
ফটো কার্ড
এ জাতীয় আরো খবর..